বেদবাণী ২য় খন্ড / ২১৪

শ্রীশ্রী রাম ঠাকুরের বেদবাণী

দ্বিতীয় খণ্ড | বাণী নং ২১৪

“ভাগ্যং ফলতি সর্ব্বত্র, ভাগ্যই ফল দিয়া থাকে। এই ভাগ্য আবরণ শূন্য হইলে যে অবস্থা তাহাই ভগবান, কি ভাগ্যবান, বলিয়া জানিবেন। ইহাকেই সাবিত্রীব্রত বলে। ইহার দ্বারা সত্যবানকে সাবিত্রী কালের বন্ধন হইতে উদ্ধার করিয়া তিন কুল, অর্থাৎ পিতা (ধর্ম্ম) পতি (কর্ম্ম) পুত্র (পবিত্র, শুচি) উদ্ধার করিয়াছিলেন, জানিবেন। অতএব অখণ্ড সত্যকে ধরিয়া থাকিবেন, সত্যই যথাসম্ভব ভাগ্যফল হইতে উদ্ধার করিয়া লইবেন।”

🙏🏻🌷 শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর 🌷🙏🏻
বাণীর আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা

এই গভীর তত্ত্বময় বাণীতে শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর মানবজীবনের ভাগ্য, সত্য ও মুক্তির রহস্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

১. “ভাগ্যং ফলতি সর্ব্বত্র” —
জীবের জীবনে যা কিছু ঘটে, তা পূর্বকৃত কর্ম ও ভাগ্যের ফলস্বরূপ। মানুষ নিজের বুদ্ধি বা শক্তি দ্বারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ভাগ্যই জীবনের সুখ-দুঃখের ফল প্রদান করে।
২. “ভাগ্য আবরণ শূন্য হইলে” —
যখন মায়া, অহংকার ও কর্মফলের আবরণ দূর হয়, তখন জীব ভগবৎস্বরূপ অবস্থায় পৌঁছায়। সেই অবস্থাই প্রকৃত মুক্তি বা ঈশ্বরচেতনা।
৩. “সাবিত্রীব্রত” —
সাবিত্রী তাঁর সতীত্ব, সত্যনিষ্ঠা ও অটল ভক্তির দ্বারা মৃত্যুর দেবতা যমের কাছ থেকে সত্যবানকে ফিরিয়ে আনেন। এখানে সাবিত্রী প্রতীক সত্য ও আত্মশক্তির, আর সত্যবান প্রতীক জীবাত্মার।
৪. “তিন কুল উদ্ধার” —
পিতা = ধর্ম্ম,
পতি = কর্ম্ম,
পুত্র = পবিত্রতা ও শুচিতা।

সত্যের আশ্রয়ে থাকলে জীবনের ধর্ম, কর্ম ও চিত্ত — এই তিনই শুদ্ধ ও মুক্ত হয়।
৫. “অখণ্ড সত্যকে ধরিয়া থাকিবেন” —
শ্রীঠাকুর নির্দেশ দিচ্ছেন যে, জীবনের সকল অবস্থায় সত্যের আশ্রয় নিতে হবে। সত্যই মানুষকে কর্মফল ও ভাগ্যের বন্ধন থেকে মুক্তির পথে নিয়ে যায়।
www.srisriramthakur.com